দেশে হামের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ৯৪ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬১ জনে।
বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেখানে বলা হয়েছে, মৃতদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৬৮ শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪ শিশুর মধ্যে ৩ জন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। বাকি একজনের মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে নতুন করে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৭২ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে সংখ্যা ৩১৫ জন।
ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে, যেখানে ২১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১১০ জন নতুন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ৯০৬ জন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। ফলে হাসপাতালে রোগীর চাপ ধীরে ধীরে কিছুটা কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।
গত ৯৪ দিনে মোট ৮৮ হাজার ৮৯৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। তাদের মধ্যে ৭৩ হাজার ২৭৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৬৩৪ জনের শরীরে। পাশাপাশি চিকিৎসা শেষে গত ৯৪ দিনে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৯ হাজার ৬৮৮ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তারা আরও জানিয়েছেন, জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া হামের সাধারণ উপসর্গ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন