জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ভারতে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই শুক্রবার (২ অক্টোবর) মুম্বাইয়ে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

একই দাবিতে নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরেও জড়ো হওয়ার কথা রয়েছে বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কই এসব কর্মসূচির মূল কারণ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে। তাদের দাবি, দেশব্যাপী ভোটার যাচাইয়ের নামে অনেক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকার। কমিশনের ভাষ্য, ভোটার তালিকায় থাকা মৃত ব্যক্তি, দ্বৈত নাম ও অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন, ভোটার নিবন্ধন এবং কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনের দুই ডেপুটি অন্তত ১৪ বার উদ্বেগ জানিয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং সব কার্যক্রম আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে।

সিজেপির আহ্বায়ক সৌরভ দাস বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, তারা পরিবর্তনের দাবি করছেন। তার ভাষ্য, ভোটের অধিকারই যদি পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হয় এবং সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব নয়। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার যাচাই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়। সমালোচকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় ভোট দেওয়ার যোগ্য অনেক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। বিপরীতে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভুয়া, মৃত ও অযোগ্য ভোটার শনাক্ত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোও আগামী ৬ অক্টোবর থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির আত্মপ্রকাশ মূলত বেকারত্ব ও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে। তরুণদের এই প্ল্যাটফর্মের আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের রাজনীতিতে আলোচনায় আসে। সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজিৎ দীপক।