সাধারণ নেইল পলিশ দ্রুত উঠে যাওয়ায় এর বদলে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে জেল পলিশ। পানি, রান্নাবান্না বা দৈনন্দিন কাজের কারণে সাধারণ নেইল পলিশ দুই-তিন দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু জেল পলিশ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় নখ সাজাতে অনেকেই এখন এটি বেছে নিচ্ছেন। নিজের স্বাভাবিক নখেই দীর্ঘ সময় রং, গ্লিটার ও নকশা ধরে রাখার সুবিধা মিলছে এতে।
অনেকের ধারণা, জেল পলিশ ও নেইল এক্সটেনশন একই বিষয়। তবে আসলে দুটির কাজ আলাদা। কারও নখ ছোট হলে কৃত্রিমভাবে তা বাড়িয়ে পছন্দের আকৃতি দেওয়াকে নেইল এক্সটেনশন বলা হয়। অন্যদিকে জেল পলিশে নখের আকার পরিবর্তন না করে স্বাভাবিক নখের ওপর রং ও নকশা করা হয়।
সাধারণ নেইল পলিশ বাতাসের সংস্পর্শে শুকিয়ে যায় এবং তুলনামূলকভাবে কম সময় স্থায়ী হয়। জেল পলিশ বিশেষ রাসায়নিক ফর্মুলায় তৈরি একটি টেকসই প্রলেপ। এটি বাতাসে স্বাভাবিকভাবে শুকায় না, বরং বিশেষ এলইডি আলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় ধরে কিউর করা হয়।
জেল পলিশ করার পর প্রাকৃতিক নখের বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে এটি এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। রান্নাবান্নার সময় হলুদ বা মসলার দাগ লাগলেও সাধারণ নেইল পলিশ রিমুভার দিয়ে তা পরিষ্কার করা যায়। এতে জেল পলিশের চকচকে ভাবও অনেকটাই অক্ষত থাকে।
জেল পলিশ করার শুরুতে নখকে পছন্দ অনুযায়ী ডিম্বাকার, চারকোনা বা কফিনের মতো আকৃতি দেওয়া হয়। এরপর বাফারের সাহায্যে কিউটিকল পরিষ্কার করা হয়। বিশেষ জীবাণুনাশক উপাদান ব্যবহার করে নখের উপরিভাগও প্রস্তুত করা হয়। এতে পরবর্তী ধাপে রং ও নকশা ভালোভাবে বসানো সহজ হয়।এরপর নখে প্রথমে বেজ কোট লাগানো হয়। বেজ কোট নখের সঙ্গে জেল রংকে ভালোভাবে আটকে রাখতে সাহায্য করে। এরপর পছন্দের জেল কালার বা নেইল আর্ট করা হয়। নকশা শেষ হলে নখগুলো বিশেষ এলইডি আলোর নিচে রাখা হয়।
সাধারণত প্রতিটি কোট লাগানোর পর ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ড এলইডি আলোর নিচে রেখে জেল শুকিয়ে শক্ত করা হয়। সবশেষে টপ কোট লাগানো হয়। এরপর আবার প্রায় দুই মিনিট আলোতে রেখে এটি কিউর করা হয়। ফলে নখে মসৃণ ও কাচের মতো উজ্জ্বল একটি আস্তরণ তৈরি হয়।
তবে জেল পলিশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। নখ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোড়ার দিকে ফাঁকা জায়গা তৈরি হলে অনেকেই হাত দিয়ে বা দাঁত দিয়ে পলিশ তুলে ফেলেন। এভাবে খুঁচিয়ে তুললে নখের স্বাভাবিক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জেল পলিশ সাধারণ নেইল পলিশের মতো সহজে তোলা যায় না। এটি তুলতে বিশেষ উপাদান ও নির্দিষ্ট পদ্ধতি প্রয়োজন হয়। তাই অভিজ্ঞ সেলুনে গিয়ে দক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে জেল পলিশ তুলে ফেলা ভালো। সম্ভব হলে যেখান থেকে পলিশ করানো হয়েছে, সেখানেই গিয়ে অপসারণ করানো উচিত।
মানহীন পণ্য ব্যবহার বা অনভিজ্ঞ কারও মাধ্যমে জেল পলিশ করালে নখ পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। তাই জেল পলিশ করার আগে সেলুনের পরিচ্ছন্নতা, ব্যবহৃত পণ্যের মান এবং কর্মীর দক্ষতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। সঠিকভাবে ব্যবহার ও অপসারণ করলে জেল পলিশ হতে পারে নখ সাজানোর সুবিধাজনক একটি পদ্ধতি।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন