ফিফার নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার একটি পরিকল্পনা সদস্য দেশগুলোর সামনে উপস্থাপন করেছে। তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা UEFA, যা বিষয়টিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হলে প্রতিটি সদস্য সংস্থা উন্নয়ন তহবিল হিসেবে ৪ কোটি ডলার (প্রায় ৩ কোটি ১ লাখ পাউন্ড) পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ পেতে পারে।
ফিফার প্রস্তাব অনুযায়ী, FIFA Forward Enterprise (FFE) নামে একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিং এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফিফা এই নতুন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহ করতে চায়। ফিফার দাবি, নতুন প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য বাজারমূল্য হতে পারে ২০ বিলিয়ন ডলার।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এই অর্থের মাধ্যমে আগামী চার বছরে সদস্য দেশগুলোর জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ফুটবল উন্নয়ন তহবিল বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে। এই অর্থ গ্রাসরুট ফুটবল, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতীয় দলের বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবহার করা যাবে বলে দাবি ফিফার।
তবে ফিফার নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে UEFA এই প্রস্তাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল সংস্থা এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সমালোচকদের আশঙ্কা, বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হলে ভবিষ্যতে ফুটবলের বাণিজ্যিক দিক আরও প্রাধান্য পাবে এবং খেলাটির ঐতিহ্য ও স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যদিও ফিফা এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিনিয়োগ এলেও বিশ্বকাপ ও অন্যান্য প্রতিযোগিতার পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ এবং ক্রীড়াসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিফার কাছেই থাকবে।
চিঠিতে ইনফান্তিনো আরও সতর্ক করে বলেছেন, সদস্য দেশগুলো যদি এই পরিকল্পনা সমর্থন না করে, তাহলে ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প, গ্রাসরুট ফুটবল এবং জাতীয় দলগুলোর জন্য বর্তমানের তুলনায় কম অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফিফার সংবিধান অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে ২১১টি সদস্য দেশের অর্ধেকের বেশি সংস্থার সমর্থন এবং ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "ফুটবল সমর্থকদের। তাই খেলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্তে তাদের স্বার্থই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।"
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিফার নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি বিশ্ব ফুটবলের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে পরিকল্পনাটি অনুমোদন পাবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে সদস্য দেশগুলোর ভোট এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচনার ওপর।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন