শরীরে পানির ঘাটতি হলে শুধু পানি পান করাই সবসময় যথেষ্ট মনে নাও হতে পারে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা, শরীরচর্চা করা কিংবা অতিরিক্ত ঘামের পর শরীর থেকে পানি ও বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইট কমে যেতে পারে। তখন সঠিকভাবে তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
ইলেকট্রোলাইট হলো এমন কিছু খনিজ, যা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত। হৃদ্যন্ত্র, পেশি, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে এগুলোর ভূমিকা রয়েছে। শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতেও ইলেকট্রোলাইট প্রয়োজন।
দোকানের পানীয়ের বদলে ঘরেই কেন বানাবেন?
বাজারে বিভিন্ন ধরনের স্পোর্টস ও ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক পাওয়া যায়। তবে সব পানীয়তেই যে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান থাকবে, এমন নয়। কিছু পণ্যে কৃত্রিম রং, অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম মিষ্টি বা অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে।
বাড়িতে ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক তৈরি করলে কী কী উপাদান ব্যবহার করছেন, তার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকে। একই সঙ্গে পানীয়তে কতটা মিষ্টি বা লবণ থাকবে, সেটিও নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক করা যায়।
আরেকটি সুবিধা হলো খরচ। রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপাদান দিয়েই দ্রুত একটি সতেজ পানীয় তৈরি করা সম্ভব।
মাত্র ৪ উপাদানে তৈরি করুন ঘরোয়া পানীয়
একটি সাধারণ ঘরোয়া ইলেকট্রোলাইট পানীয় তৈরির জন্য মূলত চারটি উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে—পানি বা নারকেলের পানি, লবণ, মধু এবং লেবু বা অন্য কোনো সাইট্রাস ফলের রস।
প্রথমে ৪ কাপ পানি বা নারকেলের পানি নিন। এর সঙ্গে এক-চতুর্থাংশ থেকে আধা চা-চামচ লবণ মেশাতে পারেন। এরপর ২ থেকে ৪ টেবিল চামচ কাঁচা মধু যোগ করুন।
সবশেষে একটি লেবু বা লাইমের রস মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন। স্বাদ অনুযায়ী উপাদানের পরিমাণ কিছুটা পরিবর্তন করা যেতে পারে।
লবণ কেন ব্যবহার করা হয়?
এই পানীয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর একটি হলো লবণ। লবণ থেকে সোডিয়াম পাওয়া যায়, যা শরীরের তরলের ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। হিমালয়ান সল্ট বা সি সল্ট ব্যবহার করার কথাও উৎসের তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বেশি লবণ যোগ করলেই পানীয় বেশি কার্যকর হবে—এমন নয়। তাই নির্ধারিত পরিমাণের মধ্যে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
লেবু বা লাইম যোগ করলে কী হয়?
লেবু বা লাইমের রস পানীয়টিকে সতেজ স্বাদ দেয়। একই সঙ্গে সাইট্রাস ফলকে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের উৎস হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
লেবু পছন্দ না হলে অন্য সাইট্রাস ফল বা পানিযুক্ত ফল ব্যবহার করে স্বাদ পরিবর্তন করা যায়।
মধু কেন যোগ করা হয়?
মধু পানীয়তে প্রাকৃতিক মিষ্টতা যোগ করে। ফলে অতিরিক্ত কৃত্রিম মিষ্টি ব্যবহার না করেও পানীয়কে সুস্বাদু করা যায়।
তবে মধুও চিনি ও ক্যালরির উৎস। তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মধু ব্যবহার না করাই ভালো।
নারকেলের পানি হতে পারে আরেক বিকল্প
সাধারণ পানির পাশাপাশি নারকেলের পানিও ব্যবহার করা যায়। উৎসের তথ্য অনুযায়ী, নারকেলের পানি প্রাকৃতিকভাবে হাইড্রেটিং এবং পটাশিয়ামসমৃদ্ধ একটি পানীয়।
তাই যারা সাধারণ পানির স্বাদে বৈচিত্র্য চান, তারা ঘরোয়া ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক তৈরিতে নারকেলের পানি ব্যবহার করতে পারেন।
ফল ও সবজিও রাখতে পারেন তালিকায়
শুধু পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে খাবারের মাধ্যমেও শরীরে পানি যোগ করা যায়। তরমুজ ও শসার মতো পানিযুক্ত ফল ও সবজি খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে।
এ ধরনের খাবার শরীরে তরল গ্রহণের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় অন্যান্য পুষ্টি যোগ করতেও সাহায্য করতে পারে।
কখন এই পানীয়ের কথা ভাবতে পারেন?
গরমের দিনে বাইরে দীর্ঘ সময় কাটানো, শরীরচর্চার পর অতিরিক্ত ঘাম হওয়া কিংবা পানিশূন্যতার আশঙ্কা থাকলে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
তবে প্রত্যেক ব্যক্তির পানির ও ইলেকট্রোলাইটের প্রয়োজন এক নয়। বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে বা বারবার পানিশূন্যতার সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সব মিলিয়ে, রান্নাঘরের সাধারণ উপাদান দিয়েই তৈরি করা যায় একটি সহজ ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক। পানি বা নারকেলের পানি, সামান্য লবণ, মধু এবং লেবুর রস—এই চারটি উপাদান দিয়ে তৈরি পানীয় হতে পারে বাজারের অতিরিক্ত উপাদানযুক্ত পানীয়ের একটি সহজ ঘরোয়া বিকল্প। তবে হাইড্রেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং নিজের শারীরিক অবস্থার প্রতি নজর রাখা।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন