পাকিস্তানি অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিমের বিয়ের সাজ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পর্দায় বিয়ের পোশাকে তার উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে পোশাকের নকশা, রঙ, কারুকাজ এবং এর সম্ভাব্য দাম নিয়ে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

দুরেফিশানের আলোচিত এই সাজ দেখা গেছে পাকিস্তানি নাটক ‘দার-ই-নিজাত’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিয়ের দৃশ্যে। নাটকে জারিয়াব চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। দৃশ্যটিতে তাকে আইভরি রঙের পিশওয়াজ ও চুড়িদারে দেখা যায়। এর সঙ্গে ছিল সোনালি ও আইভরি রঙের কারুকাজ করা চাদর। পুরো সাজে ঐতিহ্যবাহী পাকিস্তানি বিয়ের পোশাকের সঙ্গে আধুনিক আভিজাত্যের সমন্বয় দেখা গেছে।

দুরেফিশানের পিশওয়াজটি তৈরি করেছেন ডিজাইনার রিজওয়ান আহমেদ। আইভরি রঙের পোশাকটির নিচের অংশে রয়েছে সোনালি কারুকাজ। এতে পোশাকটিতে আরও জমকালো আবহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সাজের সঙ্গে থাকা চাদরটি তৈরি করেছে লাজ বাই লাজবন্তী। পোশাকটির নকশা ও রঙের সমন্বয়ই দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।

তবে এই সাজের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে চাদরটি। কারণ, একই চাদর এর আগে পরেছিলেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমির। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইয়াশমা গিলের বোনের নিকাহ অনুষ্ঠানে হানিয়ার পরনেও দেখা গিয়েছিল একই চাদর। ফলে দুরেফিশানকে সেই চাদরে দেখে অনেকেরই আগের ছবিগুলোর কথা মনে পড়ে যায়।

একই পোশাক বা একই পোশাকের অংশ একাধিক তারকার ব্যবহারের ঘটনা বিনোদন ও ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন নয়। তবে জনপ্রিয় দুই অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে একই চাদর ব্যবহারের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। দুরেফিশানের নাটকের বিয়ের দৃশ্য প্রকাশের পর তাই শুধু তার চরিত্রের সাজ নয়, চাদরটির আগের ব্যবহারও আলোচনায় এসেছে।

দুরেফিশানের পোশাকের সম্ভাব্য দাম নিয়েও কম আলোচনা হচ্ছে না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার পরা আইভরি পিশওয়াজটির দাম ৮৫ হাজার পাকিস্তানি রুপির বেশি। তবে পুরো সাজের মোট মূল্য কত, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই পোশাকের দাম নিয়ে প্রকাশিত অঙ্কটিকে আনুমানিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

‘দার-ই-নিজাত’ নাটকটি ২০২৬ সালের ১ আগস্ট এআরওয়াই ডিজিটালে প্রচার শুরু করে। এতে দুরেফিশান সেলিমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন শেহরিয়ার মুনাওয়ার। নাটকটির গল্পে জারিয়াব চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ কারণে তার বিয়ের দৃশ্য ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও ছিল বেশি।

বিয়ের দৃশ্যের পোশাক প্রকাশের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে। দর্শকদের একাংশ দুরেফিশানের সাজের প্রশংসা করছেন, আবার অনেকে পোশাকটির ডিজাইন ও দাম নিয়ে আলোচনা করছেন। আইভরি রঙের পিশওয়াজের সঙ্গে সোনালি কারুকাজ এবং চাদরের ঐতিহ্যবাহী নকশা পুরো লুকটিকে আলাদা করে তুলেছে।

দুরেফিশান সেলিম এর আগেও নিজের ফ্যাশন সচেতনতার কারণে আলোচনায় এসেছেন। বিভিন্ন নাটক ও অনুষ্ঠানে তার পোশাকের ধরন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ দেখা যায়। ‘দার-ই-নিজাত’-এর বিয়ের সাজও সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ‘দার-ই-নিজাত’-এর বিয়ের দৃশ্য এখন শুধু গল্পের একটি অংশ হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। দুরেফিশানের সাজ, ডিজাইনারের পরিচয়, চাদরটির আগের ব্যবহার এবং পোশাকের সম্ভাব্য দাম, সবকিছু মিলিয়ে দৃশ্যটি পাকিস্তানি বিনোদন ও ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।