ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬০৮ জন। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। শনিবার (৩ অক্টোবর) দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা এরই মধ্যে ২৫৬ জনে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৪ হাজার ৩৬৯ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৮ হাজার ৪৮২ জন। ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর হিসাব—দুটিই নজরে রাখছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
এ বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। সেখানে এখন পর্যন্ত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
বিশেষ করে গত সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। শুধু ওই এক মাসেই সারাদেশে ১৪৮ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মোট ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বরের মৃত্যুর সংখ্যা একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তৈরি করেছে।
ডেঙ্গুতে সাধারণত জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে গুরুতর অবস্থায় রক্তক্ষরণ, তীব্র পেটব্যথা বা বারবার বমির মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরের ভেতর ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম বা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাও জরুরি।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন