চীনের গ্র্যাজুয়েশন সিজন নিয়ে দীর্ঘ ৯ বছরের বাস্তব ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে প্রতিবছর জুন মাস এলেই দেশটির ৩ হাজারেরও বেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসগুলো এক কোটি শিক্ষার্থীর পদচারণায় এক অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন উৎসবে রূপ নেয়।
নর্থ চায়না ইলেকট্রিক পাওয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে সম্প্রতি পিএইচডি সম্পন্ন করা এক বাংলাদেশী গবেষকের মতে, সেখানে গ্র্যাজুয়েশন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রম এবং স্বপ্নপূরণের এক বিস্ফোরক ও গর্বিত স্বীকৃতি।
ক্যাম্পাসের লাইব্রেরি, লেকের পাড় কিংবা গবেষণাগারের সামনে বাবা-মা ও বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার এই অনন্য উৎসবের সময়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অভিভাবকদের কারণে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতেও একটি ব্যাপক ইতিবাচক অর্থনৈতিক গতিশীলতা তৈরি হয়।
চীনের এই দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষা সংস্কৃতির সবচেয়ে মানবিক ও কার্যকর দিক হলো, শিক্ষার্থীরা তাদের থিসিস ও একাডেমিক গবেষণা শেষ করার সাথে সাথেই কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের হাতে মূল সনদপত্র ও সমাবর্তন উৎসবের আনন্দ তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্বের অনেক দেশেই পড়াশোনা শেষ হওয়ার ১ থেকে ২ বছর পর সমাবর্তন হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী চাকরিতে যোগদান বা বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে এই অমূল্য স্মৃতি থেকে বঞ্চিত হন, যা থেকে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি যুগোপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন