BTS গ্র্যামি বয়কট ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত অঙ্গনে। ২০২৭ সালের ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে নিজেদের কোনো গান জমা না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই গ্র্যামিসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড BTS-এর ঐতিহাসিক দুটি লাইভ পারফরম্যান্স ভিডিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি Recording Academy।
গ্র্যামিসের ওয়েবসাইটে আগে থাকা BTS-এর "Dynamite" (২০২১) এবং "Butter" (২০২২)-এর লাইভ পারফরম্যান্স আর দেখা যাচ্ছে না। তবে ভিডিওগুলো এখনও BTS-এর নিজস্ব অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে রয়েছে। ভিডিও অপসারণের সময় এবং ব্যান্ডের বয়কট ঘোষণার মধ্যে মিল থাকায় অনেকেই এটিকে কাকতালীয় বলে মনে করছেন না।
গত ২৯ জুলাই সাত সদস্যের BTS এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা ২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে কোনো গান জমা দেবে না। তাদের ভাষায়, সংগীতকে ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে ভাগ না করে তার শিল্পমানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। এই অবস্থানকে অনেকেই গ্র্যামির নতুন Best Asian Pop Music Performance বিভাগ চালুর প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই বিভাগে মনোনয়নের জন্য গানে অন্তত একটি এশীয় ভাষা থাকতে হবে। সমালোচকদের দাবি, BTS-এর নতুন অ্যালবাম ARIRANG-এর বেশিরভাগ গান ইংরেজিতে হওয়ায় এই নিয়ম তাদের মতো শিল্পীদের মূল বিভাগ থেকে দূরে রাখার ঝুঁকি তৈরি করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশিষ্ট সংগীত উদ্যোক্তা ও Hyundai Card-এর সিইও টেড চুংও প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ভাষার ভিত্তিতে সংগীতকে আলাদা বিভাগে ভাগ করা শিল্পীদের জন্য বৈষম্যমূলক হতে পারে।
অন্যদিকে Recording Academy-এর প্রধান নির্বাহী হার্ভে ম্যাসন জুনিয়র BTS-এর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বলেন, নতুন বিভাগটি এশীয় শিল্পীদের আরও বেশি স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই চালু করা হয়েছে। তবে সংগীত বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আলাদা আঞ্চলিক বিভাগ তৈরি করলে আন্তর্জাতিক শিল্পীরা মূল প্রতিযোগিতা থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন।
ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের BTS ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পারফরম্যান্সগুলো পুনরায় শেয়ার করতে শুরু করেছেন। তাদের বক্তব্য, ওয়েবসাইট থেকে ভিডিও মুছে ফেলা গেলেও গ্র্যামির মঞ্চে BTS-এর অর্জন বা বিশ্বসংগীতে তাদের অবদান কখনোই মুছে ফেলা যাবে না। ফলে BTS গ্র্যামি বয়কট এবং গ্র্যামির নতুন নীতি নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন