নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকেই প্রাধান্য দিতে চায় বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অরাজনৈতিক নয়, বরং মাঠের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ নেতাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে আগ্রহী দলটি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে দলীয় ফোরামের বৈঠকে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে বিএনপিও নিজেদের অবস্থান নির্ধারণে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, এক-এগারোর সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমদ অরাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়ায় রাজনৈতিক সংকট দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে পারেননি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ কাউকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায় বিএনপি। সূত্রটি আরও জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। দলের ফোরামেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এবং বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিকেই দল মনোনয়ন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। তবে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, দলটি নির্ধারিত সময়সীমার শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সামনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যত দ্রুত সম্ভব রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার পক্ষেই তারা।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। বর্তমানে বিশেষ অধিবেশন ডেকে নির্বাচন আয়োজনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এক যুগ্ম মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এবার রাষ্ট্রপতি পদে একজন ক্যারিয়ারসম্পন্ন ও রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেই দেখতে চায় দল। অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দল কোনো মন্তব্য করেনি।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেওয়া হবে। অন্যদিকে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের একাডেমিক, সাংগঠনিক ও কর্মজীবনের তথ্য-উপাত্ত ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিগগিরই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন