বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) ১০৬তম ব্যাচে সিপাহী (জিডি) পদে নিয়োগের আবেদন আজ মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। নারী ও পুরুষ উভয় প্রার্থীই এই নিয়োগে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে সকাল ১০টায় এবং চলবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তিতে মোট পদসংখ্যা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ প্রার্থীদের জন্য একই শর্ত রাখা হয়েছে। এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.৫০ থাকতে হবে। দেশের সব জেলার যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন। প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে এবং তালাকপ্রাপ্ত প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।
বয়সের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা অনুসরণ করতে হবে। ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে হতে হবে। সেই হিসাবে গ্রহণযোগ্য জন্মতারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০০৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০০৯-এর মধ্যে। বয়স প্রমাণের জন্য কোনো ধরনের এফিডেভিট গ্রহণ করা হবে না।
পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা সাধারণভাবে কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং ওজন ১১০ পাউন্ড বা প্রায় ৪৯.৯০ কেজি হতে হবে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং ওজন ১০৪ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি এবং স্ফীত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি থাকতে হবে। দৃষ্টিশক্তি থাকতে হবে ৬/৬।
নারী প্রার্থীদের জন্য সাধারণ উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি এবং ওজন ১০৪ পাউন্ড বা প্রায় ৪৭.১৭ কেজি হতে হবে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের নারীদের উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট এবং ওজন ৯৬ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। নারীদের বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ২৮ ইঞ্চি এবং স্ফীত অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি হতে হবে। নারী প্রার্থীদের দৃষ্টিশক্তিও ৬/৬ থাকতে হবে।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী সিপাহী (জিডি) পদে বেতন স্কেল ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা। এর সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী বাড়িভাড়া, বাসস্থান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। আবেদন সম্পন্ন করতে বিজিবির ই-রিক্রুটমেন্ট ব্যবস্থায় প্রথমে যোগ্যতা যাচাই ও রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৬ টাকা, যা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিশোধ করা যাবে।
রেজিস্ট্রেশনের পর মোবাইলে পাওয়া ওটিপি দিয়ে নম্বর যাচাই করতে হবে এবং ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর এসএসসি ও এইচএসসির তথ্য যাচাই, ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান এবং সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি আপলোড করতে হবে। চূড়ান্তভাবে সাবমিট করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি, কারণ জমা দেওয়ার পর তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। পরীক্ষার আগে এসএমএসের মাধ্যমে প্রবেশপত্র ডাউনলোডের বিষয়ে জানানো হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা রয়েছে। নির্ধারিত মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাই আবেদন করার আগে বয়স, শিক্ষাগত ও শারীরিক যোগ্যতা বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। আগ্রহী প্রার্থীদের শেষ দিনের অপেক্ষা না করে ২৪ সেপ্টেম্বরের আগেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন