ব্যালন ডি’অর জিততে এক ফুটবলারের এজেন্ট নাকি রহস্যময় একটি খামের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন। ফ্রান্স ফুটবলের সাবেক পরিচালক ও ব্যালন ডি’অরের সাবেক প্রধান পাস্কেল ফেরে জানিয়েছেন, এক মনোনীত খেলোয়াড়ের এজেন্ট তাঁর কাছে এসে প্রার্থিতার পক্ষে জুরিদের সমর্থন আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে ফেরের টেবিলে রেখে যাওয়া সেই খামের ভেতরে কী ছিল, তা আজও অজানা।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের দায়িত্বে থাকার সময়ের সেই চমকপ্রদ ঘটনার কথা জানান ফেরে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনীত এক ফুটবলারের এজেন্ট তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। সাক্ষাতে তিনি খেলোয়াড়টির বিভিন্ন অর্জন ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
এরপর ওই এজেন্ট সরাসরি ফেরেকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি জুরিদের কাছে তাঁর খেলোয়াড়ের প্রার্থিতা তুলে ধরে সমর্থন আদায় করতে পারবেন? ফেরে জানান, তিনি এ ধরনের কোনো ভূমিকা রাখতে রাজি হননি। তবে এরপরই ঘটে যায় এমন একটি ঘটনা, যা পুরো বিষয়টিকে রহস্যে ঘিরে ফেলে।
ফেরে জানান, সাক্ষাতের একপর্যায়ে তাঁকে একটি ফোন রিসিভ করার জন্য কিছুক্ষণের জন্য সেখান থেকে উঠতে হয়েছিল। ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, ওই এজেন্ট আর সেখানে নেই। তবে টেবিলের ওপর পড়ে রয়েছে একটি খাম। বিষয়টি দেখে ফেরে খামটি না খোলার সিদ্ধান্ত নেন।
সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ফেরে বলেন, ফোন ধরতে তাঁকে কিছুক্ষণের জন্য উঠতে হয়েছিল। ফিরে এসে দেখেন এজেন্ট চলে গেছেন এবং টেবিলে একটি খাম রাখা। তিনি খামটি তুলে সরাসরি রিসেপশনে জমা দিয়ে দেন। খামের ভেতরে কী ছিল, সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণা নেই।
ঘটনাটি সেখানেই শেষ হলেও রহস্য কাটেনি। পরবর্তী সময়ে ওই এজেন্টের সঙ্গে ফেরের বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের মধ্যে আর কখনো সেই খাম নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি এজেন্টও জানাননি, খামের ভেতরে আসলে কী ছিল।
ফলে ব্যালন ডি’অর ঘিরে এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে আছে খামটির রহস্য। সেই এজেন্ট কে ছিলেন, কোন ফুটবলারের হয়ে তিনি এসেছিলেন এবং খামের ভেতরে কী ছিল, তার কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অবশ্য ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ওই ফুটবলার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ছিলেন।
আরও জানা যায়, সেই খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত কখনো ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে। কারণ, পুরস্কারটি মূলত খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্ধারিত হলেও এর আগে থেকেই প্রার্থীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চলে।
ফেরের এই অভিজ্ঞতা ব্যালন ডি’অরকে ঘিরে মাঠের বাইরের প্রচারণা ও তৎপরতার বিষয়টিও সামনে এনেছে। তবে সেই রহস্যময় খামের ভেতরে সত্যিই কোনো প্রস্তাব বা অন্য কিছু ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অজানাই রয়ে গেছে সেই খামের আসল রহস্য।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন