৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সংশোধিত বিধানের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। তার মতে, সাংবিধানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ধারা অব্যাহত থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমানে জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট চলছে। দীর্ঘ সময় পর একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচন হওয়ায় এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এ ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক চর্চার বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে পারে।
এদিকে ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের বিষয়টি সরকার প্রক্রিয়ার মধ্যে রেখেছে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সংবিধানের এই গুরুত্বপূর্ণ বিধান নিয়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত কমিটিতে এখনো বিরোধী দল অংশ নেয়নি।
তবে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ না থাকলেও ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যেই রেখেছে এবং ভবিষ্যতে সংশোধিত বিধান বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নতুন বিধানের আলোকে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
বর্তমান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যায়। সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা এই বিধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক রয়েছে।
সাম্প্রতিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও অনুচ্ছেদটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটের ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তের ভূমিকা এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদীয় আসন হারানোর বিধান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন হলে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, সেটি সংশোধিত বিধান চূড়ান্ত হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তাতেও পরিবর্তিত বিধানের প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের উদ্যোগ বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সংশোধনের চূড়ান্ত রূপ কী হবে এবং এতে বিরোধী দলের মতামত কতটা যুক্ত হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন