স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত, যা রাজধানীর অপরাধ ইতিহাসে অন্যতম একটি দৃষ্টান্তমূলক রায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজমুন নাহার নিপু দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
২০২১ সালে ঢাকার মহাখালী এলাকায় সংঘটিত হওয়া এই চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় এবং সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। মামলার নথিতে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে তাদের পারিবারিক কলহ চরম রূপ নেয় এবং তার জের ধরেই এই নির্মম অপরাধের পরিকল্পনা করা হয়।
পরবর্তীতে এই নৃশংস অপরাধের ঘটনাটি সম্পূর্ণ গোপন করার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর মরদেহটি ৬ টুকরো করে মহাখালী ও বনানীর বিভিন্ন জনাকীর্ণ ও অন্ধকার স্থানে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। মরদেহের অবশিষ্টাংশের মধ্যে মূল ধড়টি মহাখালীর আমতলী সড়ক, দুই হাত-পা এনা বাস কাউন্টারের সামনে এবং বিচ্ছিন্ন মাথাটি বনানী-১১ নম্বরের লেক থেকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
ঘটনার পরপরই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে দ্রুত গ্রেফতার করতে সমর্থ হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তকারী দল। নির্মম এই স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার সুনিপুণ তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে ঘটনার সত্যতা তুলে ধরে একটি চূড়ান্ত এবং বস্তুনিষ্ঠ অভিযোগপত্র দাখিল করে।
আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন সকল ধরনের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং উভয় পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামিকে এই কঠোর দণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সমাজে এই ধরনের নৃশংস ও বর্বরোচিত অপরাধের পুনরাবৃত্তি রুখতে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এই শাস্তির কোনো বিকল্প নেই।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন