রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর পল্লবীতে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পল্লবীতে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাসায় যান। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
পল্লবীতে গত মঙ্গলবার ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিশু নিরাপত্তা ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।
রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলা সামনে আসার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এমন নির্মম ঘটনা তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় এলাকাবাসীর মধ্যেও শোকের পরিবেশ দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে এশার নামাজ শেষে রামিসার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দা, আত্মীয়স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলা এখন দেশের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অনেকে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন