বিশ্বকাপে ছোট দেশগুলো এবার শুধু অংশগ্রহণ করেই থেমে থাকেনি, নিজেদের লড়াই, আবেগ আর সাহসী পারফরম্যান্স দিয়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় জয় করেছে। ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাট নিয়ে শুরুতে অনেক সমালোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এই সম্প্রসারিত বিশ্বকাপই এনে দিয়েছে একের পর এক নতুন গল্প, নতুন নায়ক এবং নতুন ফুটবল সংস্কৃতির পরিচয়।
২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল কুরাসাও ও কেপ ভার্দে। জনসংখ্যা ও আয়তনে ছোট এই দুই দেশ প্রমাণ করেছে, বড় মঞ্চে সাফল্য অর্জনের জন্য শুধু নাম নয়, প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস ও দলগত লড়াই।
বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাও প্রথম ম্যাচেই জার্মানির কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও ইতিহাস গড়েন মিডফিল্ডার লিভানো কোমেনেনসিয়া। তিনি দেশের হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করেন। এরপর গোলরক্ষক এলোয় রুম ইকুয়েডরের বিপক্ষে দুর্দান্ত ১৫টি সেভ করে দলকে এনে দেন প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট। তার এই পারফরম্যান্স বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলকিপিং হিসেবে প্রশংসিত হয়।
অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলেই সবাইকে চমকে দেয় কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে তারা স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয়। সেই ম্যাচে গোলরক্ষক ভোজিনহা অসাধারণ সেভ করে রাতারাতি ফুটবল বিশ্বের আলোচনায় চলে আসেন। শুধু তাই নয়, শেষ ষোলোতেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলে বিদায় নিলেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য।
শুধু কুরাসাও বা কেপ ভার্দেই নয়, আরও কয়েকটি ছোট দলও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। ডিআর কঙ্গো পর্তুগালের বিপক্ষে ড্র করে এবং ইংল্যান্ডকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে। মিসর অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে এবং পরে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে। প্যারাগুয়ে জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দেয়।
বিশ্বকাপ শেষে শিরোপা জিতেছে স্পেন। তবে এই আসরের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হয়ে থাকবে ছোট দেশগুলোর সাহসী লড়াই। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ যে ফুটবলকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে, নতুন দেশ ও নতুন নায়ককে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে—২০২৬ সালের বিশ্বকাপ তারই উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন